April 19, 2026, 10:07 pm

ফতুল্লা তিতাসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ইসমাইলের সম্পদের পাহাড়

নারায়নগঞ্জের মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরনে হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী ইসমাইল প্রধানের অপকর্ম ।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :আবাসিক বাড়ী ও বিভিন্ন কল-কারখানায় অবৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের আঞ্চলিক অফিসের -কর্মচারী, গ্যাসের লাইন সংযোগকারী ঠিকাদার ও স্থাণীয় প্রভাবশালী দালালের সমন্বয়ে একটি শাক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন । ফলে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে কোটিপতি বনে গেছেন গ্যাস ইসমাইল । ৩০/৩৫ বছর চাকুরী করে বেতন, বোনাস মিলে যত টাকা পেতেন, তারচেয়েও শতগুণ বেশী সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ফতুল্লা অফিসে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম ওয়েল্ডার ইসমাইল প্রধান। তিনি ফতুল্লার তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরনে ৩৪ মুসল্লি অগ্নিদগ্ধে নিহতের মামলায় চার্জসিটভুক্ত আসামী। অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানে তার অন্যতম সহযোগি মনির । ইসমাইল প্রধান তিতাসের গ্যাস লাইন সংযোগের ক্ষেত্রে ওয়েল্ডিং কাজের একজন ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী। তার বেতন-ভাতা খুবই সীমিত। তবে অবৈধ ইনকাম শতগুণ । বাসাবাড়ী সহ কল-কারখানায় অবৈধ উপায়ে গ্যাসের সংযোগ দিতে পারলেই কারীকারী টাকা। বাসাবাড়ীতে প্রতিটি ডবল চুলার মাসিক গ্যাস বিল ১১শ টাকা এবং ২০১২ সালের পর নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় বাড়ীওয়ালারা লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিতাসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অবৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ নিয়ে থাকে। মাসে মাসে প্রতিটি চুলার হিসেবে অবৈধ পন্থায় গ্যাসের বিল পরিশোধ করে ব্যবহারকারীরা। আর ইসমাইলরা তা নিজের পকেট ভরে।

এসব কাজে ইসমাইলরাই থাকে প্রথম সারিতে। ইসমাইলদের মতো এক একজন গ্যাস চোরের অধীনে অন্তত শতাধিক বাড়ীর নিয়ন্ত্রণ থাকে। মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করে এরা উপর তলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত ভাগ-বন্টণ করে। উত্তর চাষাড়া কায়েমপুর পুরোনো মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ইসমাইল প্রধান ৫ শতাংশ জমির জমি কিনে টিনসেড় নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য তিন কোটি টাকা । সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ইসমাইল নিজেই আবার পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়ীতে ভাড়া থাকেন। তিনি নারায়নগঞ্জের গডফাদার খেলার আগেই পালিয়ে যাওয়া শামীম ওসমানের লুটপাট বাহিনীর অন্যতম সদস্য। শামীম ওসমানের শেল্টারে বিগত ১৫ বছরে নারায়গঞ্জের গ্যাস অফিসকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিনত করেছেন ইসমাইলের সহ যোগী মনির সিন্ডিকেট। অপকর্ম করে তিতাসের এই জোনাল অফিসের ইসমাইল সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিতাসের এক কর্মচারী জানান, ফতুল্লার ওয়াসা সংলগ্ন ওসমান সাহেব রোড়ের মজিবর মিয়ার ৭তলা বাড়ীতে ২৮টি চুলায় অবৈধ উপায়ে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ২৮টি চুলা জ্বালানোর জন্য ইসমাইলকে তিনমাস অন্তর অন্তর ৭৫ হাজার টাকা বিল দিতে হয়। মাঝে মাঝে গ্যাস অফিসের অফিসাররা এসে লাইন কেটে দেয়। পরে তারাই লাইন চালু করে দেয়। হেড অফিস থেকে অভিযান টিম আসার আগেই বাড়ীওয়ালাকে জানিয়ে দেয়া হয়, তখন লাইন খুলে রাখতে হয়। একই চিত্র দেখা গেছে চিতাশাল এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়ী, দেওয়ান ফার্মেসীর বাড়ী, ইতালি কাসেমের বাড়ী সহ শতাধিক বাড়ীতে। একই প্রক্রিয়ায় অবৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইসমাইল প্রধান ও তার সিন্ডিকেটে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা